প্রাচুর্যতাকে তিনি পদাঘাত করেছেন

বায়তুশ শরফ আমার কাছে দরবারীদের, অসংখ্য ভক্তদের মত একটি আবেগের আস্তানা নয়। বায়তুশ শরফ আমার কাছে কতগুলো অন্ধ-বধিরদের ভিত্তিহীন কাশফ্ কারামতের গল্পের আসর নয়। বায়তুশ শরফ আমার কাছে একটি কানন। যে কাননে ফুটে আছে অসংখ্য গোলাপ। চারিদিকে ছড়িয়েছে সৌরভ। বায়তুশ শরফ আমার কাছে অন্যায়, জাহিলিয়াত, বিদআতের বিরুদ্ধে এক কঠিন প্রতিবাদ। বায়তুশ শরফকে আমি পেয়েছি সকল ফিরকার আলেম, গবেষকসহ সকলের জন্য এক ঐক্যের মঞ্চ; উলামাদের মিলনমেলা। বায়তুশ শরফ দ্বীনের পথে সংগ্রামীদের নিরাপদ আশ্রয়, মাথা গোঁজার ঠাঁই।

চট্টগ্রামের ধনিয়ালাপাড়ার একটি নগণ্য অখ্যাত যিক্রের আস্তানা কীভাবে পরিণত হল ফিকিরের, জ্ঞান-গবেষণার এত বড় মারকাজে? এর প্রাণপুরুষ ছিলেন মরহুম আবদুল জব্বার রহ.। আল্লাহ্ তা’আলার অসীম কৃপায়, তাঁর সাথীদের সীমাহীন ত্যাগ ও কুরবানির বিনিময়ে মরহুম আবদুল জব্বার রহ. এ মারকাজকে যে অসামান্য বিস্তৃতি-বর্ণিলতা- বহুমাত্রিকতায় রূপ দিয়েছিলেন, সেটি এক বিস্ময়কর বিস্মর। সেটা ছিল মকবুলিয়াতের এক দৃষ্টি নন্দন মিনার।

শাহ্ আবদুল জব্বার রহ.-এর মৃত্যু ছিল এক অপূরণীয় শূন্যতা। এক জ্যোতিষ্কের পতন। উম্মাহর জীবন থেকে এক অভিভাবক- রাহবারের তিরোধান। বায়তুশ শরফ পিতৃতুল্য মুরব্বী হারিয়ে এতিম হয়ে পড়েছিল। সেই কঠিন সময়ে বায়তুশ শরফের বিশাল জাহাজের যিনি হাল ধরেছিলেন, লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়েছিলেন এই কিস্তিকে, সে নাবিক হযরতুল আল্লাম বাহরুল উলুম শাহ্ সূফী মাওলানা কুতুব উদ্দিন রহ.। তিনি বায়তুশ শরফ কামিল মাদ্রাসার সুযোগ্য প্রিন্সিপাল। ইসলামি ব্যাংকের শরীয়াহ্ কাউন্সিলের চেয়ারম্যান। তিনি একজন দাঈ ইলাল্লাহ্। ইল্মে দ্বীনের বর্ণিল উজ্জ্বল এক চেরাগ।

যে আল্লাহ্র হাতে আমার জীবন, সেই আল্লাহ্র শপথ করে আমি বলছি, মরহুম আবদুল জব্বার রহ.কে আমি দেখেছি, তিনি ছিলেন আমানতদার, বিশ্বস্ত, দুনিয়ার প্রতি নির্লোভ, নিরাসক্ত। তিনি এমন এক বিরলপ্রজ পীর ছিলেন, প্রাচুর্যতা তাঁর কদম চুম্বন করেছে আর তিনি তাকে পদাঘাত করেছেন। তিনি ইল্মে দ্বীনের পৃষ্ঠপোষক। সকল আলেমের প্রতি ছিলেন দয়ার্দ্র। অসামাজিক, অনৈসলামিক কর্মকাণ্ডের নির্মল আপোষহীন যোদ্ধা। তিনি দুঃস্থ মানবতার সেবায় ছিলেন অকাতর প্রাণ।’


-অধ্যাপক মফিজুর রহমান

বিশিষ্ট স্কলার ও শিক্ষাবিদ, (লন্ডন, যুক্তরাজ্য)।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *